ব্ল্যাক-আউটের পূর্নিমায় (দৈনিক বাংলা, ০৩ জানুয়ারি, ১৯৭২)

শহীদ কাদরী

একটি আংটির মতো তোমাকে পরেছি স্বদেশ
আমার কনিষ্ঠ আঙ্গুলে, কখনও উদ্ধত তরোয়ালের মতো
দীপ্তিমান ঘাসের বিস্তারে দেখেছি তোমার ডোরাকাটা

জ্বলজ্বলে রূপ জ্যোৎস্নায়। তারপর তোমার উন্মুক্ত প্রান্তরে
কাতারে-কাতারে কত অচেনা শিবির, কুচকাওয়াজের ধ্বনি,
যার আড়ালে তুমি অবিচল, অটুট চিরকাল,

যদিও বধ্যভূমি হলো সারাদেশে- রক্তপাতে, আর্তনাদে
হঠাৎ হাওয়ায় ভরে গেল বাংলার বিস্তীর্ন প্রান্তর,
অথচ সেই প্রান্তরেই একদা ধাবমান জেব্রার মনে

জীবনানন্দের নরম শরীর ঘে’ষে ঊর্ধ্বশ্বাস বাতাস বয়েছে।
এখন সেই বাতাসে শুধু ঝলসে যাওয়া
স্বজনের রক্তমাংসের ঘ্রাণ এবং ঘরে ফিরবার ব্যাকুল প্ররোচনা।

শৃংখলিত বিদেশীর পতাকার নীচে এতকাল ছিলো যারা
জড়োসড়ো মগজের কুন্ডলীকৃত মেঘে পিস্তলের প্রজ্বল আদল
শীতরাতে দিয়েছিলো ধমনীতে অন্য এক আকাঙ্ক্ষার তাপ।

আবাল্য তোমার যে- নিসর্গ ছিলো নিদারূণ নির্বিকার,
সুরক্ষিত দুর্গের মতোন আমাদের প্রতিরোধ সে হল সহায়,
ব্ল্যাকআউট অমান্য করে তুমি দিগন্তে জ্বেলে দিলে

বিদ্রোহী পূর্নিমা। আমি সে পূর্নিমার আলোয় দেখেছি
স্বাধীনতার বিমান বহর আর এ-দেশের সকল প্রান্তর জুড়ে
তরূণ সৈনিকের মুক্তিপাগল পদচারণা এবং এক শোকার্ত

বিধুর রক্তাক্ত কিন্তু উজ্জ্বল, অপরূপ উদ্ধত পতাকা,
যার প্রচ্ছায়ে আমরা ফিরছি আবার নিজস্ব ঔঠোন পার হয়ে
নিজেদের ঘরে।

ব্ল্যাক-আউটের পূর্নিমায়

ব্ল্যাক-আউটের পূর্নিমায়

পত্রিকার জন্য কৃতজ্ঞতা: Center for Bangladesh Genocide Research (CBGR) এবং International Crimes Strategy Forum (ICSF)।

Leave a Reply