নির্যাতিতা মহিলাদের পুনর্বাসনের আবেদন (দৈনিক বাংলা, ০৪ জানুয়ারি, ১৯৭২)

গত ২৫শে মার্চ বর্বর হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ন’ মাসে এ দেশের হাজার হাজার মহিলা তাদের হাতে লাঞ্ছিতা ও নির্যাতিত হয়েছেন। তাই স্বাধীনতা লাভের পর স্বাভাবিকভাবেই নাগরিকদের উপর বহু দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তেছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এ ধরনের নিগৃহীত মা বোনদের সমাজে পূর্ণ মর্যাদার সাথে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ঢাকার কয়েকজন বুদ্ধিজীবী মহিলা সংবাদপত্রে এ সম্পর্কে এক বিবৃতিতে বলেন যে একথা সবারই জানা যে বাংলাদেশের গ্রামে ও নগরে অসংখ্য কন্যা ও বধু বর্বর সৈন্যদের দ্বারা লাঞ্ছিতা হয়েছেন। লাঞ্ছিতাদের মধ্যে যারা সধবা তাদের স্বামী যেন এই নিরপরাধ বধুদের স্বগৃহে মর্যাদার সংগে প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং যারা বিধবা ও কুমারী তাদেরও যেন দেশের উদার প্রাণ, সংস্কারমুক্ত সংগ্রামী তরুণরা জীবনসঙ্গিনী হিসেবে গ্রহণ করে তাদের সামাজিক পুনর্বাসন সুনিশ্চিত করে এই মানবিক সমস্যা সমাধান করতে এগিয়ে আসেন।

আনুমানিক এক হিসেবে পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লক্ষ নারী নর পশুদের হাতে লাঞ্ছিতা হয়েছেন। এদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন, তারা যেন সামাজিক সমস্যা হয়ে না দাঁড়ান, তাদের নিষ্পাপ জীবন যেন ব্যর্থ না হয়, সেজন্যে স্বাধীন দেশের নবচেতনায় উদ্বুদ্ধ সংস্কৃতিবান ও উদার প্রাণ তরুণদের কাছে তারা এক আকুল আবেদন জানান। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে যে সমস্ত যুবক শিক্ষার সুযোগ পাননি, তারাও এই মানবিক সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।

বিবৃতিতে যারা সাক্ষর করেন তারা হলেনঃ

বেগম সুফিয়া কামাল, রাবেয়া আলী, আহমদ শরীফ, কবীর চৌধুরী, সৈয়দ মুর্তাজা আলী, সৈয়দা জাহানারা করিম (অধ্যক্ষ), কাজী আমেনা বেগম (অধ্যাপিকা), সালমা খানম (অধ্যাপিকা), লুৎফুন্নেসা হক (অধ্যাপিকা), রাইসা সুলতানা (অধ্যাপিকা), ছুরাখশা বেগম (অধ্যাপিকা), নাজমা বেগম (অধ্যাপিকা), আয়েশা সিদ্দিকা (অধ্যাপিকা), আনোয়ারা বেগম (অধ্যাপিকা), হানুফা খাতুন (অধ্যাপিকা), সেলিমা বাহার জামান (অধ্যাপিকা), সিদ্দিকা বেগম (অধ্যাপিকা), জাহানারা বেগম (অধ্যাপিকা), মিনুফার চৌধুরী (অধ্যাপিকা), নার্গিস জাহান ফরিদা বেগম (অধ্যাপিকা), নাসিম বানু (অধ্যাপিকা), শামসুন নাহার বেগম (অধ্যাপিকা), রওশন আরা বেগম (অধ্যাপিকা), কাজী মদিনা (অধ্যাপিকা)।

নির্যাতিতা মহিলাদের পুনর্বাসনের আবেদন

পত্রিকার জন্য কৃতজ্ঞতা: Center for Bangladesh Genocide Research (CBGR) এবং International Crimes Strategy Forum (ICSF)।

Leave a Reply